বিশ্বের প্রথম ‘কৃত্রিম ভ্রূণ’ তৈরি করলেন একদল বিজ্ঞানী

A group of scientists created the world's first 'artificial embryo'

ছবিঃ সংগৃহীত

এই গবেষণা মানুষের কোষ এবং টিস্যু প্রতিস্থাপনের জন্য নতুন পথ উন্মোচন করবে। উদাহরণ হিসেবে, এর মাধ্যমে লিউকেমিয়া রোগীর ত্বকের কোষ বোন ম্যারো স্টেম সেলে রূপান্তর করে তাঁদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা

গোটা বিশ্বের এই এই প্রথম ‘কৃত্রিম ভ্রূণ’ তৈরি করেছেন ইসরাইল দেশের একদল বিজ্ঞানী। কৃত্রিম এই ভ্রূণের জন্য শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিষিক্তকরণের প্রয়োজন হবে না। একে কৃত্রিম ভ্রূণ বলা হচ্ছে কারণ নিষিক্ত ডিম্বাণু ছাড়াই এই ভ্রুণ তৈরি করা হয়েছে। প্রাকৃতিক ভ্রূণের বিকাশের সময় অঙ্গ এবং টিস্যু কীভাবে গঠন করে সে সম্পর্কে গভীরভাবে বোঝার জন্য পরবর্তীতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট’ ২০২২) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরাইলের ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন গবেষণার ফলে দেখেছেন, ইঁদুরের স্টেম সেল একত্রিত করে ভ্রণের প্রাথমিক আকৃতির মতো কাঠামো দেওয়া যেতে পারে। ওই ভ্রুণে অন্ত্রের নালী থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের প্রাথমিক গঠন ও হৃদস্পন্দনও থাকবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ছবিঃ সংগৃহীত


বিজ্ঞানীরা গবেষণায় কিছু কোষকে রাসায়নিক দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে, যা জেনেটিক প্রোগ্রাম চালু করে প্লাসেন্টা বা কুসুমের থলিতে পরিণত হয়। অন্য অঙ্গ ও টিস্যু ছাড়াই এই ভ্রুণ বিকাশ লাভ করে বলে গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়।

গবেষণার মধ্যে দেখা গেছে, বেশিরভাগ স্টেম সেল ভ্রূণের মতো গঠন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে প্রায় শূণ্য দশমিক পাঁচ(০.৫) শতাংশ স্টেম সেল মিলিত হয়ে ছোট বলের কারণ ধারণ করে। ওই বল থেকেই স্বতন্ত্র টিস্যু এবং অঙ্গের বিকাশ ঘটে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

অভ্যন্তরীণ গঠন এবং কোষের জেনেটিক প্রোফাইলের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাকৃতিক ইঁদুরের ভ্রুণের সঙ্গে তুলনা করলে কৃত্রিম এই ভ্রূণের ৯৫ শতাংশ মিল রয়েছে।

ছবিঃ সংগৃহীত


এই গবেষণা মানুষের কোষ এবং টিস্যু প্রতিস্থাপনের জন্য নতুন পথ উন্মোচন করবে। উদাহরণ হিসেবে, এর মাধ্যমে লিউকেমিয়া রোগীর ত্বকের কোষ বোন ম্যারো স্টেম সেলে রূপান্তর করে তাঁদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।  

গত বছর একই গবেষক দল একটি প্রাকৃতিক গর্ভে বিপরীতে যান্ত্রিক গর্ভ তৈরি করেছিল। যেখানে দেখা গেছে, প্রাকৃতিকভাবে নিষিক্ত ইঁদুরের ভ্রুণ কয়েকদিন জরায়ুর বাইরেই বেড়ে উঠছিল।