প্রগতিশীল ছাত্র জোট সম্পর্কিত আলোচনায় বর্তমান জোটের অবস্থান।
![]() |
| ছবিঃ সংগৃহীত |
আমরা প্রগতিশীল ছাত্র জোট মনে করি, বাংলাদেশে প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্বার্থে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের বিকল্প এখনো গড়ে ওঠেনি। অতীতের ন্যায় শিক্ষার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ও ছাত্রস্বার্থ রক্ষার সংগ্রামে প্রগতিশীল ছাত্র জোট অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে
বাম ছাত্র জোটের বর্তমান অবস্থানঃ
প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের লড়াকু জোট, প্রগতিশীল ছাত্র জোটের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানবেন। ২০০২ সালে বুয়েটে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে সনি হত্যার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মধ্যদিয়ে তৈরি হয় বামপন্থী ছাত্রদের নতুন জোট প্রগতিশীল ছাত্র জোট।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, সমাজবাদী ছাত্র জোট, বাংলাদেশ ছাত্র কেন্দ্র, ছাত্র ঐক্য ফোরাম এদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে এই জোট।
গত ২০ বছরে শিক্ষার্থীদের সকল নৈতিক ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং একইসাথে দুঃশাসন ও রাজনীতির নামে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও তোলাবাজির বিপরীতে প্রগতিশীল ছাত্র জোট সারা দেশের ছাত্র সমাজের সামনে আদর্শের রাজনীতির একমাত্র ভরসাস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুনঃ হত্যাকাণ্ডের ৩০ বছরেও বিচার হয়নি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন, বর্ধিত ফি বিরোধী আন্দোলন, সান্ধ্যকালীন বাণিজ্যিক কোর্স বিরোধী আন্দোলন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইনিং চার্জ বিরোধী আন্দোলন, ফি বিরোধী আন্দোলন, যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন, রাজশাহীতে বর্ধিত ফি বিরোধী আন্দোলন, সান্ধ্যকালীন কোর্স বিরোধী আন্দোলন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত ফি বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশবিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের অসংখ্য সাফল্যের নজির রয়েছে।
এসকল আন্দোলনে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ব্যাপক মাত্রায় অংশগ্রহণ করে। জাতীয় পর্যায়ে আমরা দেখি জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন, সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন, আগস্ট ছাত্র বিদ্রোহ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ জনজীবনের সকল সমস্যা নিয়ে প্রগতিশীল ছাত্র জোট ভূমিকা পালন করে।
প্রগতিশীল ছাত্র জোট শুরু হয়েছিল সাত সংগঠনের জোট হিসেবে। দীর্ঘ ২০ বছরের পথচলায় অনেক সংগঠনই জোট থেকে বেড়িয়ে গেছেন, কোন সংগঠন তার সক্রিয়তা হারিয়ে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যেমন প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের দুই সদস্য সংগঠন ছাত্র ঐক্য ফোরাম এবং সমাজবাদী ছাত্র জোট বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
আবার বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী ছাত্রলীগসহ সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ছয় ছাত্র সংগঠনের জোটে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে ছাত্র জোট থেকে বেড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী থেকে বেড়িয়ে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী আবার জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী আবার ভেঙ্গে একই নামে আরেকটি সংগঠন হয় সেটিও জোটের সাথে যুক্ত হয়। এই সংগঠনও আবার বিলুপ্ত হয়ে যায়। ২০১৩ সালে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট থেকে বেড়িয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী) নামে একটি সংগঠন তৈরি হয়, তারাও আবার জোটের সাথে যুক্ত হয়। এভাবেই নানা চড়াই উত্রাইয়ের মধ্য দিয়েই পরীক্ষিত একটি শক্তি হিসেবে ছাত্র জোট এখনও আন্দোলনমুখী ভূমিকা পালন করতে সদা সচেষ্ট রয়েছে।
সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনের আগে জোটভুক্ত ৫টি সংগঠন ছিল। ডাকসু নির্বাচন পরবর্তীকালে ভিন্ন ভিন্ন কারণে ছাত্র ফেডারেশন ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী জোট থেকে বেরিয়ে যায়। কী কারণেই বা তারা তখন বেরিয়ে গেলেন, এখন কী কারণেই আবার ঐক্যের কথা বলছেন, তা কোন কিছুই স্পষ্ট নয়।
পরবর্তীতে জোটভুক্ত ৩টি সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী) মিলেই সকল আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করে আসছিলো। ২০১৯ সাথে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতৃত্বে সারাদেশে গড়ে ওঠে ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে আন্দোলন।
পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৪০ তম সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের একটি বিদ্রোহী অংশ তৈরি হয়। ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ সংগঠনের এই অভ্যন্তরীন বিবাদ নিরসনের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রগতিশীল সংগঠনগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, প্রগতিশীল আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্তও দৃশ্যমান। অনেক বন্ধু সংগঠন সেই ফাঁদে পা বাড়িয়ে প্রতিক্রিয়াশীল এবং সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সাথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের যে প্রয়াস রেখেছেন, তা দেশের প্রগতিমনা মানুষের জন্য অশনিসংকেত।
সর্বশেষ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী) প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সাথে আন্দোলন পরিচালনা করবেন কিনা সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন, প্রগতিশীল ছাত্র জোটের আন্দোলন থেকে নিজেদের বিরত রেখেন এবং সেই অজুহাতে ছাত্র জোটকেও অকার্যকর করে রাখার অপচেষ্টা চালান।
এতে তারা ছাত্র জোটের সমন্বয়ক থাকা অবস্থায়ই জোটের সাথে কোনরূপ আলাপ আলোচনা না করেই জোটবহির্ভূত সংগঠনগুলোর সাথে কর্মসূচি ঘোষণা করাসহ নানামুখী শঠতারও আশ্রয় নেন।
আমরা প্রগতিশীল ছাত্র জোট মনে করি, বাংলাদেশে প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্বার্থে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের বিকল্প এখনো গড়ে ওঠেনি।
অতীতের ন্যায় শিক্ষার অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ও ছাত্রস্বার্থ রক্ষার সংগ্রামে প্রগতিশীল ছাত্র জোট অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ও প্রতিক্রিয়াশীল এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি রুখে দিতে প্রগতিমনা শিক্ষার্থীদের প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই আমরা।
শুভেচ্ছা সহ
মোঃ ফয়েজ উল্লাহ
সমন্বয়ক, প্রগতিশীল ছাত্র জোট
সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন
মুক্তা বাড়ৈ
সভাপতি,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
![]() |
| সংগৃহীত |


0 Comments