মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে এক চা শ্রমিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, ভাঙচুর ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আশপাশের চা বাগানের হাজারো শ্রমিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা যায়, শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ঐশী রবিদাস (১৪) মাথাব্যথা নিয়ে গত ২৬ মার্চ রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন ২৭ মার্চ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে ফুলের টব ভাঙচুর করেন এবং চিকিৎসক ও স্টাফদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হাসপাতালের ইনচার্জ ডা. আনোয়ার হোসেনকে নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে নেয়।
এরপর নিরাপত্তাহীনতার কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ফলে ২৭ মার্চ থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যার এই ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালটি ডানকান ব্রাদার্স লিমিটেডের অধীন ১৫টি চা বাগানের প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিকের চিকিৎসার প্রধান ভরসা। একসময় এখানে অস্ত্রোপচারসহ আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটসহ নানা কারণে কয়েক বছর ধরে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা এখন উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্থানীয় চা শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা চালু করা, পূর্বের মতো সব ধরনের অপারেশন পুনরায় শুরু করা এবং ঐশী রবিদাসের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করা জরুরি।”
এ বিষয়ে শমশেরনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপমহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল খোলা থাকলেও চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকায় সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই হেড অফিস থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।
ডিবিসি ভয়েস/ডি এম

Social Plugin